ভিপিএন ব্যবহারকারীদের জন্য কতটা নিরাপদ | ভিপিএন কি এবং ব্যবহারের নিয়ম

ভিপিএন এর পূর্ণরূপ কি? VPN এর পূর্ণরূপ হল "ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক" যা ইন্টারনেট ব্যবহার করার সময় একটি পাবলিক ইন্টারনেট সার্ভারে ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

VPN একজন ব্যবহারকারীর নেটওয়ার্ক ট্রাফিক এনক্রিপ্ট করে এবং তাদের নেটওয়ার্ক ব্যবহারকারীর পরিচয় গোপন রাখে। ফলস্বরূপ, তৃতীয় পক্ষের জন্য ব্যবহারকারীর ট্র্যাফিক বা ডেটাবেস চুরি করা আরও কঠিন হবে। VPN একটি প্রযুক্তি যা রিয়েল টাইমে ডেটা এনক্রিপ্ট করতে পারে।


ইন্টারনেট আরও সহজলভ্য হওয়ার সাথে সাথে গ্রাহকদের মধ্যে ডেটা সুরক্ষার চিন্তা মাথায় আসতে থাকে এবং ধীরে ধীরে তা চালু হয়। সেই সময়ে, মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ দ্বারা ডেটা এনক্রিপ্ট করা হয়েছিল এবং তারপরে একটি ভিপিএন তৈরি করা হয়েছিল।

VPN কি এবং ব্যবহারের নিয়ম, What is VPN, VPN full form

VPN কিভাবে কাজ করে?

VPN তার হোস্ট দ্বারা বিশেষভাবে পরিচালিত একটি দূরবর্তী সার্ভারের মাধ্যমে নেটওয়ার্ককে পুনঃনির্দেশ করে ব্যবহারকারীর IP ঠিকানা লুকিয়ে রাখতে সাহায্য করে। এর মানে হল যে আপনি নেটওয়ার্কে VPN এর সাথে সংযুক্ত থাকলে,

VPN সার্ভার আপনার ডাটাবেস হয়ে যায়। এটি আপনার ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (ISP), আপনার সার্ভার (বিশেষ করে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে, আমরা ধরে নিই এটি একটি সার্ভার) বা কোন তৃতীয় পক্ষকে আপনি কোন ওয়েবসাইট ভিজিট করছেন বা অনলাইন এ কার সাথে যোগাযোগ করছেন,

কি ডেটা আদান প্রদান করছেন তা ট্র্যাক করতে পারবে না। ফলস্বরূপ, আপনার সার্ভার বা মনিটর, যারা আপনার ডেটা নিরীক্ষণ করতে সর্বদা সক্ষম বা প্রস্তুত, তাকে অকেজো করে দেয়।

কেন VPN ব্যবহার করবেন?

ভিপিএন ব্যবহার করলে দেখবেন আপনাকে যথেষ্ট নিরাপদে রাখতে চেষ্টা করে। আপনার এলাকায় বন্ধ করা কোন ওয়েবসাইট যা আপনি ভিজিট করতে পারতেছেন না তা আপনি ভিপিএন এর সাহায্যে খুব সহজেই ভিজিট করতে পারবেন।

ওয়েবসাইট ছাড়াও আপনারা বিভিন্ন অ্যাপস ও গেমস যেগুলো আপনার দেশে বা অঞ্চলে বন্ধ করা আছে সেগুলো আপনি ভিপিএন এর সাহায্যে খুব সহজেই ব্যবহার করতে পারেন। এখন যেমন ফ্রী ফায়ার গেমটি আমাদের দেশে বন্ধ করা হয়েছে কিন্তু।


অনেকেই আছে যারা ভিপিএন এর সাহায্যে এই গেমটি এখনো খেলছেন। কিন্তু এরকম সরকার থেকে বন্ধ করা অ্যাপস ভিপিএন এর সাহায্যে ব্যবহার করা ঠিক নয়। আর আপনি যখন ইন্টারনেটে সংযোগ করেন।

তখন আপনার ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী সাধারণত আপনার সাথে সংযোগ স্থাপন করে৷‌ এটি আপনাকে IP ঠিকানা দ্বারা অনুসরণ করবে। আপনার নেটওয়ার্ক ট্র্যাফিক আপনার ISP এর সার্ভার দ্বারা পরিচালিত হয়, যারা আপনাকে লগ ইন করতে এবং আপনি অনলাইনে যা কিছু করেন তা দেখতে সাহায্য করতে পারে৷

ভিপিএন ব্যবহারের নিয়ম

ভিপিএন ব্যবহারের নিয়ম। আমার মনে হয় না ভিপিএন ব্যবহারের জন্য আপনাদের কোন নিয়ম জানার দরকার হবে, শুধুমাত্র আপনি আপনার নিরাপত্তা ঠিক রেখে ভিপিএন বা

যে কোন অ্যাপস ব্যবহার করলেই হবে। ভিপিএন যেহুতু অ্যাপস তাই এটা ব্যবহার কঠিন নয় আপনারা টুকটাক অ্যান্ড্রয়েড ফোন চালাতে পারলেই ভিপিএন ব্যবহার করতে পারবেন।

ভিপিএন ব্যবহার কি নিরাপদ?

ভিপিএন ব্যবহারের ফলে, ভিপিএন সেই ব্যবহারকারীকে অনলাইনে একটি ছদ্মবেশী নতুন রূপ দেয়। ফলে সেই ব্যবহারকারী ডেটা/তথ্য ট্র্যাক সহজ হয় না৷

ইন্টারনেট সংযোগ সহ যে কেউ এনক্রিপ্ট ছাড়াই ডেটা দেখতে এবং পরিদর্শন করতে পারে, তবে এই ডেটা অ্যাক্সেস করা খুব কঠিন এবং অনেক ক্ষেত্রে অসম্ভব, এমনকি সাইবার অপরাধীরা এবং হ্যাকাররাও এটি অ্যাক্সেস করতে পারে না।

ভিপিএন এর ক্ষতিকর দিকঃ

  • ভিপিএন চালু করার সময়ই ভিপিএন ব্যবহারকারীদের থেকে কিছু পারমিশন নিয়ে নেয় যার সাহায্যে তারা ইউজারদের তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে।
  • আপনি ইন্টারনেটে কি করছেন না করছেন সব তথ্যই ভিপিএন কোম্পানি দেখতে পারে। (কারণ আপনি ভিপিএন ব্যবহার করার সময় তাদেরকে পারমিশন টা দিয়ে দিয়েছেন।)
  • ভিপিএন ব্যবহার করলে আপনার লোকেশন বারবার পরিবর্তন হবে। এই সময় আপনি যদি কোন ফ্রিল্যান্সিং বা হাই সিকিউরিটি ওয়েবসাইটে ভিজিট করেন তাহলে আপনার একাউন্টে সমস্যা হতে পারে।

ব্যবহারকারী থেকে সংগ্রহ করা তথ্য ভিপিএন কোম্পানিগুলো কি করে?

ভিপিএন আমাদের জন্য একদিকে উপকারী এবং অন্যদিকে ক্ষতিকর ও বটে। আমরা যখন ভিপিএন ব্যবহার করি তখন ভিপিএন আমার এক থেকে আমাদের ডিভাইসের বিভিন্ন পারমিশন নিয়ে নেয়।

পরবর্তীতে তারা চাইলে আমাদের ফোনের বিভিন্ন তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে। কিন্তু এখানে কোন কোম্পানিই কখনো তাদের ব্যবহারকারীর তথ্য খারাপ কাজে ব্যবহার করবে বলে মনে হয় না।

কারন যখনই কোন কোম্পানি তার ব্যবহারকারীর তথ্য খারাপ কাজে ব্যবহার করবে তখন তার কোম্পানিতে বা তাদের যে অ্যাপসটি থাকবে সেটাকে ব্যবহারকারীরা ব্যবহার করা ছেড়ে দিবে।

কিন্তু ব্যবহারকারীর তথ্য ভিপিএন কোম্পানিগুলো বিভিন্ন কোম্পানির কাছে বিক্রি করে। কোম্পানিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি যে কোম্পানিগুলোর কাছে এই তথ্যগুলো বিক্রয় করা হয় সেটি হল বিভিন্ন বিজ্ঞাপনদাতা কোম্পানি।

বিজ্ঞাপনদাতা কোম্পানিগুলো ব্যবহারকারী কোন জিনিস গুলা বেশি পছন্দ করে সেটা জানার জন্য এই তথ্যগুলো ক্রয় করে থাকে। আপনি খেয়াল করলে দেখবেন আপনি যেই জিনিসটা বেশি পছন্দ করেন আপনার ফোনে এই সম্পর্কে বিজ্ঞাপন বেশি দেখায়।


আপনার আইএসপি নির্ভরযোগ্য মনে হতে পারে, তবে এটি বিজ্ঞাপনদাতা, পুলিশ, সরকার বা অন্যান্য তৃতীয় পক্ষের সাথে আপনার ব্রাউজিং ইতিহাস শেয়ার করতে পারে। আইএসপিগুলি সাইবার অপরাধীদের দ্বারাও আক্রান্ত হতে পারে:

আপনার ব্যক্তিগত তথ্য আপোস করা হতে পারে৷ অতএব, একটি ভিপিএন ব্যবহার করা আবশ্যক। কারণ একটি ভিপিএন ব্যবহার করলে এটি আপনার আইএসপি কে অকেজো করে দেয়।

তাছাড়া, আপনি যখন কোনো পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করেন। তখন আপনি কোনো ওয়েবসাইটে লগ ইন, যেকোনো তথ্য বিনিময় বা টাকা আদান প্রদানের সময় আপনার একাউন্ট নাম্বার,

আপনার পিন কোডসহ সব কিছু পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহারের ফলে যে কেউ সহজেই ট্র্যাক করতে পারে। তাই সেই সময়ে ভিপিএন ব্যবহার করা জরুরী৷

শেষ কথাঃ
আমরা এই আর্টিকেল এ ভিপিএন কি, ভিপিএন কিভাবে কাজ করে, ভিপিএন ব্যবহার করা কতটা নিরাপদ, ভিপিএন এর উপকারিতা এবং অপকারিতা, ভিপিএন ব্যবহারের নিয়ম ইত্যাদি আপনাদের মাঝে তুলে ধরেছি।

আপনারা যদি আমাদের এই আর্টিকেলটি থেকে নতুন কিছু জানতে বা শিখতে পারেন। তাহলে আপনার বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করে দিয়ে তাদেরকেও নতুন কিছু জানতে এবং শিখতে সহযোগিতা করুন। আরো এরকম টেকনোলজি বিষয় টিপস এবং ট্রিকস পেতে আমাদের ওয়েবসাইট এর সাথে থাকুন।

ধন্যবাদ

Post a Comment

Previous Post Next Post