বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিং শুরুর ইতিহাস | মোবাইল ব্যাংক অপারেটরের নাম | মোবাইল ব্যাংকিং এর সুবিধা অসুবিধা

বাংলাদেশের মোবাইল ব্যাংকিং ইতিহাস। আসসালামুআলাইকুম বন্ধুরা কেমন আছেন সবাই আশা করি সবাই ভাল আছেন আজকে আমি আলোচনা করব বাংলাদেশের মোবাইল ব্যাংকিং কোম্পানি সমূহ সম্পর্কে এবং

মোবাইল ব্যাংকিং এর ইতিহাস ও মোবাইল ব্যাংকিং এর উপকারিতা এবং অপকারিতা নিয়ে যা আমাদের জানা জন্য প্রয়োজন।



বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিং শুরুর ইতিহাস, মোবাইল ব্যাংক অপারেটরের নাম, মোবাইল ব্যাংকিং এর সুবিধা অসুবিধা

বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিং শুরুর ইতিহাস

2010 সালে বাংলাদেশের প্রথম মোবাইল ব্যাংকিং সেবা শুরু হয়। ডাচ বাংলা ব্যাংক সর্বপ্রথম "রকেট" মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিং এর যাত্রা শুরু করে।

রকেট হলো বাংলাদেশের সর্বপ্রথম মোবাইল ব্যাংকিং সেবা। ডাচ বাংলা ব্যাংক তাদের মোবাইল ব্যাংকিং শুরু করার পরপরই 2011 সালে ব্র্যাক ব্যাংক বিকাশ নামের একটি মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করে।

বর্তমানে বাংলাদেশে 15 টি মোবাইল ব্যাংকিং সেবা রয়েছে। আজ আমরা এই 15 টি মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কিছু জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস সম্পর্কে জানব।

রকেট মোবাইল ব্যাংকিং এর ইতিহাস

রকেট বাংলাদেশের সর্বপ্রথম মোবাইল ব্যাংকিং সেবা যা ডাচ-বাংলা ব্যাংকের একটি অংশ। রকেট মোবাইল ব্যাংকিং এর পূর্বের নাম ছিল ডাচ-বাংলা মোবাইল ব্যাংক।

যেটি চালু করে 31 শে মার্চ 2011 সালে। সেই নাম পরিবর্তন করে রকেট নামকরণ করা হয়, যা এখনো রকেট নামেই রয়েছে। ডাচ-বাংলা মোবাইল ব্যাংক "রকেট" এর গ্রাহক রয়েছে দুই কোটি 40 লাখ।

বিকাশ মোবাইল ব্যাংকিং এর ইতিহাস

ব্র্যাক ব্যাংকের অঙ্গ সংগঠন হিসাবে বিকাশ দ্বিতীয় মোবাইল ব্যাংকিং সেবা হিসেবে গড়ে ওঠে। বিকাশ দ্বিতীয় মোবাইল ব্যাংকিং সেবা হলেও, বিকাশ রকেট কে পিছনে ফেলে অনেক এগিয়ে গিয়েছে।

বিকাশ মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখন ৫ কোটির বেশি

বিকাশ বাংলাদেশের বৃহত্তর মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান। আমেরিকার মানি ইন মোশন এলএলসি এবং ব্র্যাক ব্যাংক লিমিটেড, বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে 2011 সালে "বিকাশ" নামে একটি মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু করেন।

আর পড়ুনঃ ভিপিএন ব্যবহারকারীদের জন্য কতটা নিরাপদ | ভিপিএন কি এবং ব্যবহারের নিয়ম

নগদ মোবাইল ব্যাংকিং এর ইতিহাস

বিকাশ আসার পর আরো অনেক মোবাইল ব্যাংকিং সেবা আসে। কিন্তু সেগুলো জনপ্রিয়তা না পাওয়ার কারণে আমরা সেগুলো সম্পর্কে জানি না। এর মধ্যেই একটি মোবাইল ব্যাংকিং সেবা জনপ্রিয় হয়। সেটি হল নগদ যা ডাক বিভাগের একটি প্রতিষ্ঠান।

2019 সালে নগদ মোবাইল ব্যাংকিং সেবা চালু হয়। নগদ মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশের অনেক বছর পর শুরু হলেও কিছুদিনের মধ্যেই তারা প্রায় বিকাশের কাছাকাছি চলে এসেছে।

বর্তমানে নগদ মোবাইল ব্যাংকিং এর গ্রাহক সংখ্যা 4 কোটির বেশিযা নগদ কিছুদিনের মধ্যেই অর্জন করেছে। যা সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র গ্রাহকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা প্রদান করার জন্য। জনপ্রিয়তার দিক থেকে ধরলে নগদ বাংলাদেশের তৃতীয় মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান।

উপায় মোবাইল ব্যাংকিং এর ইতিহাস

এরপর 2021 সালের 17 মার্চ দেশের চতুর্থ মোবাইল ব্যাংকিং সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে "উপায়" যেটি দেশের অন্যতম মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ও ইউসিবি ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান। উপায় ও কিছুদিনের মধ্যেই খুব জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে

বাংলাদেশের সকল মোবাইল ব্যাংকিং

  1. রকেট
  2. বিকাশ
  3. নগদ
  4. উপায়
  5. ট্যাপ
  6. MCash
  7. টি-ক্যাশ
  8. সোনালী ব্যাংক
  9. ইউ ক্যাশ
  10. টেলি ক্যাশ
  11. শিওর ক্যাশ
  12. এম ক্যাশ
  13. ওকে ওয়ালেট
  14. মাই ক্যাশ
  15. আইএফআইসি

মোবাইল ব্যাংকিং এর সুবিধা অসুবিধা

মোবাইল ব্যাংকিং অর্থাৎ বিকাশ, নগদ, রকেট ইত্যাদি আমরা সবাই কম বেশি ব্যবহার করি এবং এই মোবাইল ব্যাংকিং এসে আমাদের টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রে অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে।

আগে যে কাজগুলো করার জন্য অনেক সময় লাগতো এবং লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে হত এখন সেই কাজগুলোই মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহারের মাধ্যমে মিনিটের মধ্যে হয়ে যাচ্ছে।

কাজ গুলো হলঃ বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা, ইন্টারনেট বিল পরিশোধ কর, পানির বিল পরিশোধ করা ইত্যাদি সকল প্রকার বিল পরিশোধ করার জন্য আমাদেরকে আগে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো

মোবাইল ব্যবহারের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করতে পারি। মোবাইল ব্যাংকিং এর যেরকম সুবিধা আছে সেরকম অসুবিধাও রয়েছে। মোবাইল ব্যাংকিং এর সুবিধা এবং অসুবিধা গুলো নিচে দেওয়া হলঃ

মোবাইল ব্যাংকিং এর সুবিধা

  • মোবাইল ব্যাংকিং সেবায় আমরা দিন-রাত 24 ঘণ্টাই ব্যবহার করতে পারি এটাই সবচেয়ে বড় একটি সুবিধা
  • মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে খুব সহজেই নিজের একাউন্টে ব্যালেন্স দেখা যায়
  • মোবাইল ব্যাংকিং ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা ২৪ ঘণ্টাই খুব সহজেই একে অপরের সাথে টাকা লেনদেন করতে পারি
  • মিনিটের মধ্যে বিল পরিশোধ করার সুবিধা- বিদ্যুৎ বিল, ইন্টারনেট বিল, পানির বিল, গ্যাস বিল খুব সহজে পরিশোধ করা যায়
  • আপনি কখন কার কাছে টাকা সেন্ড করছেন বা কার থেকে টাকা রিসিভ করছেন সব কিছুই দেখতে পারবেন

মোবাইল ব্যাংকিং এর অসুবিধা

মোবাইল ব্যাংকিংয়ের অসুবিধা শুধুমাত্র একটি সেটি হল - টাকা চুরি হওয়ার সম্ভাবনা। কিন্তু এটি আপনার উপর নির্ভর করে আপনি যদি কাউকে আপনার পিন শেয়ার না করেন তাহলে আপনার একাউন্টের টাকা কিছুই হবে না।

শেষ কথা

আপনারা যদি আমাদের এই আর্টিকেলটি থেকে নতুন কিছু জানতে বা শিখতে পারেন। তাহলে আপনার বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করে দিয়ে তাদেরকেও নতুন কিছু জানতে এবং শিখতে সহযোগিতা করুন। আরো এরকম টেকনোলজি বিষয় টিপস এবং ট্রিকস পেতে আমাদের ওয়েবসাইট এর সাথে থাকুন।

ধন্যবাদ

Post a Comment

Previous Post Next Post